Breaking

Showing posts with label Latest News Updates. Show all posts
Showing posts with label Latest News Updates. Show all posts
February 05, 2018

ইংরেজির প্রশ্নপত্র ফাঁস!

ইংরেজির প্রশ্নপত্র ফাঁস!


এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সোমবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের মোবাইলে থাকা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ওই কেন্দ্রের সচিব।

এসএসসির বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল সরকার। এর পরদিনই মানিকগঞ্জে এমন ঘটনা ঘটল। পরীক্ষার আগমুহূর্তে মোবাইলকেন্দ্রিক তৎপরতা রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সরেজমিনেও দেখা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণসহ কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনাও হচ্ছে। অভিভাবকেরা বলছেন, এসব ঘটনায় তাঁদের সন্তানদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এর মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠা বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

এমন অবস্থায় সোমবার জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ। না হয় তাঁকে বরখাস্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রসচিব ও প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কোচিং সেন্টারের দুই শিক্ষককে কেন্দ্রের সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। পৌনে ১০টার দিকে তাঁদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁদের মোবাইলে প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। মোবাইলের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র মিলে যায়। তাঁদের ফোনে ‘মাই এক্সাম’ নামে একটা লিংক পাওয়া গেছে।

মানিকগঞ্জে গ্রেপ্তার কোচিংয়ের দুজন শিক্ষক হলেন রুবেল হোসেন ও শরীফুল ইসলাম। তাঁরা উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা এলাকার ফ্রেন্ডস কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা সদরের সিঙ্গাইর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে কোচিং সেন্টারের ওই দুই শিক্ষক ঘোরাঘুরি করতে থাকেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. যোবায়ের বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আর কে কে জড়িত, বিষয়টি বের করার জন্য ওই দুই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন। কেন্দ্রসচিব আকরাম হোসেন মামলাটি করেন। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া ওই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়াসহ অসদুপায় অবলম্বন করার অভিযোগে ওই কেন্দ্রের ১২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ ১০ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯। এবার শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আগেভাগে ঘোষণা দিয়ে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়। সোমবার এসএসসির ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এত কিছুর পরও ফাঁসকারীদের ধরা যাচ্ছে না।
February 05, 2018

শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান


শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এই দাবি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বানও জানান।

সংসদের বৈঠকে যখন জিয়াউদ্দীন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

প্রশ্ন ফাঁস ও ঘুষ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমি দাবি করছি, অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ব্যর্থতা, দুর্নীতি, অনিয়ম স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করুন। না হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, তাঁকে (শিক্ষামন্ত্রী) বরখাস্ত করে শিক্ষা খাতের উন্নতির জন্য গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য আপনি নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করুন।’

এ সময় সাংসদের অনেকে টেবিল চাপড়ে জিয়াউদ্দীনের বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

জিয়াউদ্দীন আহমেদের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী এটা শুনেছেন। তিনি তাঁর বিবেক-বিবেচনায় যেটুকু করা প্রয়োজন, জাতির স্বার্থে অবশ্যই তা করবেন।’

এসএসসিসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রতিদিন পত্রিকায় আসছে। এটা মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করার পরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।

বিরোধী দলের এই সাংসদ আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে। ছাত্ররা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে বেরিয়ে আসছে, কিন্তু কিছুই পারে না। তারা বাংলাও লিখতে পারে না, ইংরেজিও লিখতে পারে না। এই যদি পরিস্থিতি হয়, তাহলে কার কাছে আমরা দেশটি রেখে যাব?’

জিয়াউদ্দীন দাবি করেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে চাকরির দরখাস্তও লিখতে পারেন না। গোল্ডেন জিপিএ পেয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। শিক্ষার গুণগত মান অর্জন করা যাচ্ছে না।

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী কয়েক দিন আগে কর্মকর্তাদের বৈঠকে বলেছেন, ‘আপনারা ঘুষ খান, তবে সহনীয় পর্যায় ঘুষ খাবেন।’ এটা বলার পরে কি উনি মন্ত্রী থাকতে পারেন? যখন মন্ত্রী ঘুষের কথা বলেন, তখন তাঁর কথা তো আর কেউ শুনবেন না। তাঁর সচিব শুনবেন না, অধীন কেউ শুনবে না। তিনি তো ঘুষকে উৎসাহিত করছেন। তাহলে কীভাবে কঠোরভাবে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করবেন তা বোধগম্য নয়।’

এ সময় জিয়াউদ্দীন নিজের মোবাইল ফোন দেখিয়ে বলেন, ইউটিউবে শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য আছে।
February 05, 2018

চাকরির বয়সসীমা: ভুগবে কেন তরুণেরা?

চাকরির বয়সসীমা: ভুগবে কেন তরুণেরা?

    চাকরির বয়সসীমা: ভুগবে কেন তরুণেরা?



আমাদের দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে তুলনা করলে কিংবা এ দেশের বাস্তবতায় এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন কি না, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে লেখালেখি-মানববন্ধন-সভা-সেমিনার-স্মারকলিপি পেশসহ বহুবিধ কর্মসূচি। সরকার কখনো কখনো চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই অবস্থানও বদলেছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন এখন রূপ নিয়ে অনশনে। সরকার কি অনশনকারীদের যৌক্তিকতা বিচার করবে? 

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা কেন বাড়ানো প্রয়োজন?
আমাদের গড় আয়ু যখন ছিল ষাটের নিচে, তখন আমাদের চাকরি থেকে অবসরের সময় ছিল ৫৭ বছর। এখন সেই অবসরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ বছর। আলোচনা চলছে অবসরের সময়সীমা বৃদ্ধি করার। অবসরের সময় বাড়লে সংগত কারণে ওই দুই বছর চাকরিতে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ কমে আসে। কারণ, ওপরের পদ শূন্য হলেই কেবল নিচের পদে জনবল নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেই বিবেচনায় চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা উচিত। একই সঙ্গে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করাই ছিল যুক্তিসংগত।

স্কুলিং বেড়েছে, চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বাড়েনি
আমাদের দেশে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে আগে স্নাতক ছিল দুই বছরের। এখন হয়েছে তিন বছর। আগে স্নাতক (সম্মান) ছিল তিন বছরের কোর্স, এখন চার বছরের। আগে স্নাতকোত্তর শেষ করতে প্রয়োজন হতো চার বছর, এখন পাঁচ বছর। স্কুলিং এক বছর করে বাড়লেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়েনি। মেডিকেল কলেজে স্কুলিং বেশি হওয়ার কারণে তাঁদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা করা হয়েছে ৩২ বছর। তাহলে সাধারণদের স্কুলিং বেড়ে যাওয়ার পরও কেন চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়বে না?

পাঠক্রমে মনোযোগীদের জন্য সময় বৃদ্ধি জরুরি
বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজ পর্যায়ে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে একদল আছে, যারা পাঠক্রম (সিলেবাস) ভালোভাবে পড়ে। একাডেমিক ফল ভালো করার প্রত্যাশায় দিন-রাত পাঠক্রম রপ্ত করতে থাকে। লক্ষ্য তাদের প্রথম শ্রেণি কিংবা ভালো সিজিপিএ অর্জন। যারা সাধারণত পাঠক্রমকেন্দ্রিক পাঠে মনোনিবেশ করে, তারা চাকরির প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে পারে না। তাদের প্রস্তুতি নিতে হয় পাঠক্রমের পরীক্ষা শেষ করার পর। ফলে তারা চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অনেক কম পায়। চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা কম হওয়ার কারণে এখন অনেকেই বিষয়ভিত্তিক পড়ালেখা কমিয়ে শুধু বিসিএস পরীক্ষাসহ অন্যান্য চাকরির গাইড পড়ে। এতে করে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পাঠক্রমে মনোযোগ দেওয়ার বেলায় নিরুৎসাহিত হন।


চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতির দায় কার?
একজন শিক্ষার্থী তাঁর লেখাপড়াজীবনে পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেকটা সময় ক্ষতিগ্রস্ত হন। একজন শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দেন। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার কথা ১৮ বছর বয়সে। স্নাতক (সম্মান) পাস করার কথা ২২ বছর বয়সে। স্নাতকোত্তর ২৩ বছর বয়সে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর হলে প্রত্যেকে সাত বছর করে সময় পাওয়ার কথা চাকরির জন্য, চেষ্টার জন্য। পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে তাঁদের যে সময় নষ্ট হয়, সেই সময় কি সরকার তাঁদের দিচ্ছে? এ রকম তো কোনো পদ্ধতি চালু নেই যে একজন শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর পাসের পরদিন থেকে হিসাব করে সাত বছর সময় পাবেন চাকরির চেষ্টা করার জন্য। এখন স্নাতকোত্তর শেষ করতে কারও কারও ২৬ থেকে ২৮ বছর লাগে। পদ্ধতিগত কিংবা সেশনজটগত কারণে শিক্ষার্থীর কয়েক বছর ক্ষতির দায় কে নেবে? এর একটি উপায় তাঁদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা।

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি কি লাভজনক?
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হলে কারও ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বরং যাঁরা সরকারি চাকরিতে নিজেদের মেধা প্রয়োগ করতে চান, তাঁদের বাড়তি সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটা দেশের জন্য কল্যাণের। আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপালসহ বিশ্বের অনেক দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৮-এর ওপর। বাংলাদেশের চাকরি প্রত্যাশীরা চান মাত্র ৩৫ বছর। সেটুকু বাস্তবায়নেও সরকারের অনীহা।

সরকারের চেষ্টা কি সুদূর পরাহত?
২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে মহাজোট সরকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কিছু কিছু কাজকে বেছে নিয়েছিল। এসবের মধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করারও কথা বলা হয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্বাচনে যেহেতু জনগণের অংশগ্রহণ খুব বেশি ছিল না, তাই হয়তো বিষয়টি চাপা পড়েছে। দেশের এক দল শিক্ষার্থী আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা বৃদ্ধি করার। কয়েক বছর আগে ঢাকায় চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করার দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদ আয়োজিত একটি সেমিনারে গিয়েছিলাম। সেখানে রাশেদ খান মেননও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তিনিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধিকরণে তিনিও ভূমিকা রাখবেন। সেই চেষ্টা আজ সুদূর পরাহত?

দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনকারীরা অনশন শুরু করেছেন। আসলে তাঁদের অনশন হঠাৎ করে নয়। দীর্ঘদিন আন্দোলন শেষে তাঁরা অনশনে বসেছেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, সবাই শুধু সরকারের শেষ বছরে এসে দাবি উত্থাপন করছেন এবং অনশনে বসছেন। কেন অনশন করছেন, তাঁদের অনশন যৌক্তিক কি না, এসব বিবেচনা করাটাই জরুরি। সরকারের এ মেয়াদে সময় আছে আর অল্প দিন। আমরা আশা করি, সরকার আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি যৌক্তিকভাবে সমর্থন দেবে। কারণ, তাঁরা চাকরি চাননি, বেকার ভাতা চাননি, চেয়েছেন চাকরির চেষ্টা করার অধিক সময়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করবেন—এটাই আমাদের বিশ্বাস।

তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর