Breaking

Showing posts with label General Science. Show all posts
Showing posts with label General Science. Show all posts
January 24, 2018

দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে ভাল করার কৌশল ২য় পর্ব


দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে ভাল করার কৌশল ২য় পর্ব


দৈনন্দিন বিজ্ঞান- ২য় পর্ব
গত পর্বে আমরা বিজ্ঞান সম্পর্কে একটা সাধারণ আলোচনা করেছিলাম। পাশাপাশি কোন কোন অংশ থেকে প্রশ্ন হয় সেটাও দেখেছিলাম। এই পর্বে আমরা তাপ, শব্দ ও আলো এই তিনটি বিষয় নিয়ে একটু বিস্তৃতভাবে আলোচনা করব। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাবেন এই তিনটি অধ্যায় থেকেই প্রচুর পরিমাণ প্রশ্ন করা হয়।
তাপ নিয়ে প্রথমেই- তাপমাত্রার বিভিন্ন স্কেল সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। সেলসিয়াস, ফারেনহাইট, কেলভিন ইত্যাদি স্কেলের সাথে একটা গাণিতিক সম্পর্ক আছে। যেমন- C/5 = F-32/9 = k-273/5 এই একটি নিয়ম মনে রাখলেই আপনি কত ডিগ্রী সেলসিয়াসে কত ফারেনহাইট বা কত কেলভিন হয় সেটা মনে রাখতে পারবেন। এখানে C মানে সেলসিয়াস, F মানে ফারেনহাইট, K মানে কেলভিন। বিজ্ঞানের সাথে গণিতের একটা সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কগুলো একটু মনে রাখলেই এসব জিনিস আর আপনাকে মুখস্থ করে মাথায় চাপ ফেলতে হবে না। বরফ বা লোহা কত তাপমাত্রায় গলে এই ধরণের প্রশ্ন প্রায়ই আসে। এগুলো মনে রাখার জন্য সবগুলোকে একসাথে লিখে একটি চার্ট তৈরি করে পড়লে মনে রাখতে সুবিধা হবে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করবেন- গাইড বইতে প্রচুর জিনিসের গলনাঙ্ক, স্ফুটনাংক ইত্যাদি দেওয়া থাকে। আপনাকে কিন্তু এগুলো সব পড়তে হবে না। শুধুমাত্র হিরা, পানি, ইস্পাত বা লোহা এই ধরণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কমন বস্তুর থেকেই প্রশ্ন হয়। বিগত বছরের প্রশ্ন দেখলেই এই সম্পর্কে ভাল ধারণা পাবেন। বিভিন্ন বস্তুর প্রসারণ বা শক্তির অপচয় থেকেও প্রশ্ন হয়। এক্ষেত্রেও শুধু কমন কিছু বস্তু থেকেই প্রশ্ন করা হয়। মেঘলা দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকে কিনা, কালো কাপড় নাকি সাদা কাপড় আগে শুকায় এই ধরনেরও কিছু প্রশ্নও দেওয়া হয়। এগুলো বাস্তবতার সাথে মিলিয় মনে রাখবেন। খেয়াল করলেই দেখবেন- সাদা জিনিস কালো জিনিসের থেকে বেশি আলো প্রতিফলন করে, ফলে এসব জিনিসের সাথে মিলিয়ে এমন প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই মনে রাখা যায়।

শব্দ থেকেও অনেক প্রশ্ন হয়ে থাকে। বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ মনে রাখার জন্য, গলনাঙ্ক মনে রাখার মত করেই একটা ছোট চার্ট করে ফেলুন। বিভিন্ন উদ্ভট প্রশ্ন দেখে ভয় পাবার কিছু নেই, এগুলো সাধারণত পরীক্ষায় দেওয়া হয় না। আরেকটি জিনিস খেয়াল রাখবেন- সবসময় প্রশ্নটা ভাল করে পড়ে উত্তর দেবেন। এবার প্রিলি পরীক্ষায় এসেছিল- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত। আমার পরিচিত অনেকেই চোখ বন্ধ করে ৩৩২ মি/সে দিয়ে এসেছে। এটা হলো বায়ু মাধ্যমে শব্দের বেগ। বাতাস ছাড়া, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ প্রবাহিত হতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ হবে- শূন্য। এই কথাটি বলার কারণ হলো- কেউ যদি প্রশ্নটি ভাল মত খেয়ালও করে, কিন্তু তার যদি মূল বিষয়টি জানা না থাকে, তাহলে সে উত্তর করতে পারবে না। তাই বেশি জিনিস না পরে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস একটু ডিটেইল পড়তে হবে, আর পাশাপাশি উত্তর দেবার সময়ও প্রশ্ন লক্ষ্য করে উত্তর দিতে হবে। শব্দ কিভাবে তৈরি হয়, শব্দ কোন ধরণের তরঙ্গ, এসব বেসিক বিষয় সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকলে এই অধ্যায়টি পড়তে সুবিধা হবে। তাই স্কুলের পাঠ্যবই থেকে এসব বিষয় শিখে নিতে হবে। এছাড়াও মানুষ, কুকুর, বাদুর এসব প্রাণীর শ্রাব্যতার সীমা গুলো একটা লিস্ট করে শিখে ফেলবেন।


আলো খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আলোর বেগ, আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ ইত্যাদি বেসিক বিষয় পাঠ্য বই থেকে শিখে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরণের লেন্স ও তাদের কাজ, চোখের কার্যপ্রণালী, দৃষ্টিসীমা ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন হয়। এগুলো একবার বুঝে পড়লেই দেখবেন মনে রাখতে পারছেন। আলোর বেগ, অপটিক্যাল ফাইবার আলোর বিভিন্ন রকম ব্যাবহার এগুলো শিখে নিতে হবে। কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম-বেশি এগুলো মনে রাখার সুন্দর একটি উপায় আছে। “VIBGYOR” পদ্ধতির কথা তো সবারই মনে আছে? অথবা বেনিআসহকলাএর কথা? এখানে প্রথমে আছে বেগুনী। এটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবথেকে কম, আর শেষে আছে লাল। লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবথেকে বেশি। ফলে এভাবে একটু কৌশল অবলম্বন করে প্রস্তুতি নিলে পরিশ্রম অনেক কমে যাবে। প্রস্তুতিও ভাল হবে।
January 24, 2018

দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে ভাল করার কৌশল ১ম পর্ব

দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে ভাল করার কৌশল ১ম পর্ব


দৈনন্দিন বিজ্ঞান- প্রথম পর্ব

বিজ্ঞান বিষয়টাকে আমরা যতোটা কঠিন ভাবি, আসলে বিজ্ঞান ততো বেশি কঠিন না। একটু গুছিয়ে পড়লে বিজ্ঞান বিষয়ে অনেক ভাল নম্বর পাওয়া সম্ভব।প্রিলিমিনারি ও লিখিত এ দুই ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো করলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি থাকে। আগের সিলেবাসে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার এই সবকিছুই একই সাথে ছিল। সবকিছু মিলেয়ে গড়ে ১৫-২০ টা প্রশ্ন থাকত। কিন্তু নতুন সিলেবাসে, “বিজ্ঞানএবং তথ্য-প্রযুক্তি ও কম্পিউটারএই দুটি অংশকে আলাদা করা হয়েছে। এখন এই দুই অংশ মিলিয়ে প্রায় ৩০ মার্কের মতো প্রশ্ন হয়ে থাকে। সুতরাং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান বিষয়টা।এই অংশটুকু ভালমতো শিখতে হবে। কারণ একটু বেশি পরিশ্রম করলে এই অংশ থেকে বেশ ভাল মার্ক তোলা সম্ভব। আজকে আমরা আমাদের আলোচনা শুধুমাত্র বিজ্ঞানের প্রাথমিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব। পরবর্তী পর্বগুলোতে বিজ্ঞানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার নিয়েও বিস্তারিত লিখব।

বিজ্ঞানের সিলেবাস অনেক বিস্তৃত । তাই প্রথম কাজ হলো, কোন টপিকগুলো পড়তে হবে আর কোন টপিকগুলো ছেড়ে দিতে হবে, তা নির্বাচন করা। নির্বাচিত টপিকগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ফেলা উচিত এই ভাবে যে খুব কঠিন, কঠিন ও সহজ। এরপর খুব কঠিন ও কঠিন টপিকগুলো বারবার পড়তে হবে।কেননা সহজ টপিকগুলো আপনি একটু পড়লেই পারবেন ।

বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি ভাগে প্রশ্ন করা হয়। ১. ভৌত বিজ্ঞান অর্থাৎ পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন২. জীব বিজ্ঞান ৩. আধুনিক বিজ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয়ে থাকে- বিভিন্ন ধাতব ও অধাতব পদার্থ, বিদ্যুৎ, রোগ ও তার চিকিৎসা, তাপ, আবিষ্কার ও আবিষ্কারক, পরিবেশ বিজ্ঞান, শব্দ, মানবদেহ, প্রাণীবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, পৃথিবীর- আকার, আয়তন, গতি, মহাকাশ বিজ্ঞান ইত্যাদি অংশ থেকে। তবে এছাড়াও পদার্থের ধর্ম, পানি, বায়ুমণ্ডল, খাদ্য ও পুষ্টি, ইলেক্ট্রনিক্স, চুম্বক, রাসায়নিক বিক্রিয়া ইত্যাদি অংশ থেকেও প্রশ্ন হয়ে থাকে। পড়া শুরু করার আগে অবশ্যই বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালমতো দেখে নেবেন। আর যদি বুঝে বুঝে সমাধান করতে পারেন তাহলে সবথেকে ভাল হয়। কোন বই থেকে পড়বেন ? দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে ভাল করার জন্য অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বইটি খুব ভালমতো পড়ে ফেলতে হবে। এই বইটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন করার জন্য অনেক সমৃদ্ধ। আর পারলে নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান এই বইগুলো ও পড়তে হবে। এই বইগুলো থেকে কিন্তু সবকিছু পড়তে হবে না। যে বিষয়গুলো বা টপিকগুলো বেশি important, সেগুলো ভাল করে পড়তে হবে।সবকিছুকে একসাথে একটু ঝালাই করার জন্য কোন একটি গাইড বই থেকে পড়লে আরও সুবিধা হবে। তাই পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি একটি গাইড বইও রাখতে পারেন। কিভাবে পড়বেন? আমরা আজকাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে বাস করছি। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাবহার করা অনেক কিছুর সাথেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অনেক প্রশ্ন সরাসরি সম্পর্কিত। সম্ভবত তাই এই অংশটাকে দৈনন্দিন বিজ্ঞান বলা হয়। মজার বিষয় হলো- বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জটিল কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব থেকে প্রশ্ন করা হয়না। 
আমরা নবম-দশম শ্রেণিতে যেটুকু আবশ্যকীয় বিজ্ঞান শিখেছিলাম সেটাই মূলত প্রশ্ন করার ভিত্তি। বিজ্ঞান মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন না। একটু বোঝার চেষ্টা করলেই দেখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্যগুলো সহজেই মনে রাখতে পারছেন। আর এই জিনিসগুলো অনেকেই গাইড বই দেখে পড়ে। আপনারা ভুলেও এই কাজটি করবেন না। কারণ পাঠ্যবইতে অনেক চিত্র দেওয়া থাকে, ফলে একটি জিনিস সহজেই বুঝতে পারা যায়।যেমন, একাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বইয়ে ইলেক্ট্রনিকস চিত্রসহ ভাল করে বর্ণনা করা আছে। এছাড়া internet থেকে সহজে চিত্রসহ ধারণা নেয়া যায়। কিন্তু গাইড বইতে শুধুমাত্র জায়গায় মধ্যে প্রচুর তথ্য দেওয়া থাকে, যা দেখে মূল বিষয়টি বোঝা অনেক কঠিন। আপনারা হয়ত লক্ষ্য করেছেন যে- পিএসসি সম্প্রতি এমন ধরণের প্রশ্ন করছে যাতে না বুঝে মুখস্থ করলে পরীক্ষায় ভাল করা সম্ভব না। তাই পাঠ্য চিত্র ও বর্ণনা দেখে বুঝে বুঝে পড়ুন, খুব দ্রুত অনেক তথ্য মনে রাখতে পারবেন। বই দেখে বুঝে বুঝে পড়লে বেশকিছু সুবিধা পাবেন। এখানে একটা উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন প্রশ্ন এসেছে- নিচের কোনটি ধাতু?”। এখন আপনি যদি কোন গাইড বই দেখে প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন তাহলে দেখা যাবে এই একই প্রশ্ন আপনি শিখে এসেছেন কিন্তু সেখানে যে অপশনগুলো ছিল এখানে সেগুলো নেই। ফলে আপনি শিখেও উত্তর দিতে পারছেন না। কিন্তু আপনি যদি নবম-দশম শ্রেণীর বইটি পড়ে প্রস্তুতি নেন, তাহলে দেখবেন পৃথিবীতে মোট ৯২ রকম পদার্থ পাওয়া যায়। এগুলোকে আবার একটি টেবিলের মধ্যে সাজানো যায়। আপনি ঐ টেবিলে কয়েকবার চোখ বুলালেই ধাতু ও অধাতু সম্পর্কে আপনার বেশ ভাল একটি ধারণা পেয়ে যাবেন।তাই পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি একটি গাইড বই রাখুন প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য। আগামী পর্বগুলোতে আমরা বিজ্ঞানের বাকি অংশ, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত দেখব। সবাই ভাল থাকুন।